সত্য ও জনস্বার্থের সংবাদ, প্রতিদিন
RAFA24 লোগো

বাংলা: সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

ইংরেজি: Monday, 03 August 2026

আরবি: الاثنين، ٣ أغسطس ٢٠٢٦

Header Left Advertisement (320x100)

Advertisement

Advertisement Software Development Service
ফরিদপুর

নগরকান্দায় ত্রাণ শাখার অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি

MD. MAHDI HASAN প্রকাশ: 01 Aug 2026, 02:13 PM 63 views 3 min read
নগরকান্দায় ত্রাণ শাখার অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি
মিজানুর রহমান
নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা ত্রাণ শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণ এবং সরকারি বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াস হোসেন প্রায় ছয় বছর ধরে নগরকান্দা উপজেলা ত্রাণ শাখায় অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি রাজবাড়ী জেলায় মাস্টাররোলে চাকরি করতেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিজীবনের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, ইলিয়াস হোসেনের পারিবারিক অবস্থা আগে সাধারণ ছিল। তিনি একসময় বাবার লেপ-তোশকের দোকানে কাজ করতেন। পরবর্তীতে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, নগরকান্দা পৌরসভার মধ্য জগদিয়া এলাকায় প্রায় ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পাকা ভবন ও একাধিক টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি বিক্রেতাদের একজন মিতুল হোসেন জানান, তাদের কাছ থেকে শতাংশপ্রতি প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দরে জমি বিক্রি করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমির বাজারমূল্য এক কোটিরও বেশি বলে স্থানীয় জমি ব্যবসায়ীরা দাবি করেন।

এছাড়া গাং জগদিয়া মৌজার বিএস ৫২৫ নম্বর দাগের ৩ শতক জমি ২০২৫ সালের ১২ মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ইলিয়াস হোসেনের নামে হস্তান্তর করা হয়। দলিলে জমির মূল্য ৩১ লাখ ৫ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুটি সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার কাছাকাছি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশন নেওয়ার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিটি প্রকল্পে নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়া হয় এবং এর একটি অংশ অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেন পান।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণে অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে টিন দেওয়া হলেও সরকারের নির্ধারিত নগদ সহায়তার অর্থ অনেক ক্ষেত্রে তারা পাননি। আবার কোথাও নগদ অর্থ দেওয়া হলেও টিন বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।নিকট আত্বীয় বা পরিচিত লোকদের টিন বরাদ্দ এনে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন চাকরি করেও উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হতে পারিনি। কিন্তু একজন অফিস সহকারী অল্প সময়ে যেভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন, সেটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও অভিযোগ করেন,উন্নয়ন প্রকল্প স্যাটাম্পে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। তবে তারাও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহকারী ইলিয়াস হোসেন সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না।”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আমিনুল ইসলাম বলেন ,ভাই রাখেনতো এসব কথা।এ-সব নিয়ে নানান জনে নানান কথা বলবেই। কাজবাজ করলে এদিকসেদিক একটু অনিয়ম হতেই পারে।

জিয়ার প্রকল্পের বরাদ্দ গোপনে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে কৃষ্ণনা নামে এক নারীর নিকট থেকে অফিস সহকারী ইলিয়াস ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা নিয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষ্ণনা রানী।

জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হকক এর ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে, অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

গ্যালারি

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

Footer Advertisement (970x90)