সত্য ও জনস্বার্থের সংবাদ, প্রতিদিন
RAFA24 লোগো

বাংলা: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ইংরেজি: Thursday, 30 July 2026

আরবি: الخميس، ٣٠ يوليو ٢٠٢٦

Header Left Advertisement (320x100)

Advertisement

Advertisement Software Development Service
ফরিদপুর

নগরকান্দায় রেলওয়ের লিজকৃত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, দুই পক্ষের বিরোধে উত্তেজনা

MD. MAHDI HASAN প্রকাশ: 22 Jul 2026, 08:30 AM 69 views 3 min read
নগরকান্দায় রেলওয়ের লিজকৃত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ, দুই পক্ষের বিরোধে উত্তেজনা
মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের লিজকৃত সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা ও মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। ভোগদখলকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিবেশী দেলোয়ার মাতুব্বর ও তার লোকজন জোরপূর্বক লিজকৃত সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

জানা যায়, তালমা মৌজার ১৩৬ নম্বর জে.এল.-এর ৫৫৭, ৫৫৮, ৫৫৯, ৫৬০ ও ৫৬১ নম্বর দাগের অংশ থেকে মোট ৬২ শতাংশ জলাশয় ২০২২ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের এস্টেট বিভাগ, পাকশী থেকে নিলামের মাধ্যমে লিজ গ্রহণ করেন তালমা গ্রামের মৃত হারুর আর রশিদের ছেলে মো. আবু মুছা ও মেহেদী হাসান। উভয়ে ৩১ শতাংশ করে জলাশয়ের লাইসেন্স পান। পরবর্তীতে গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে তারা যথাক্রমে লাইসেন্স নং ২০২০(২৮)/১৪০ ও ২০২০(২৮)/১৪১ অনুযায়ী তিন বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করেন।

এছাড়া একই মৌজার ৫৬১ নম্বর দাগের অংশে ০.২৬ একর কৃষি জমির লাইসেন্সধারী মোছা. মমতাজ বেগম (লাইসেন্স নং-০৫২৯৮) চলতি বছর তার লাইসেন্সও নবায়ন করেন।

মমতাজ বেগম ও তার সন্তানরা দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের নিলামকৃত সম্পত্তি আইনগতভাবে ভোগদখল করে আসলেও সম্প্রতি প্রতিবেশী দেলোয়ার মাতুব্বর গং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছেন। কয়েকদিন আগে জলাশয়ের পাড়ে একটি গাছে নিজেদের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মমতাজ বেগম বলেন, "উক্ত সম্পত্তি একসময় আমাদের ওয়ারিশদের নামে ছিল। পরে রেলওয়ে অধিগ্রহণ করে। অধিগ্রহণের সময় দেলোয়ার মাতুব্বরদের কিছু জমির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আমরা নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ে থেকে নিলামে লিজ নিয়ে ভোগদখল করছি। এখন দেলোয়ার মাতুব্বর গং বিভিন্নভাবে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং আমাদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তালমা মৌজার ১৩২৫ নম্বর খতিয়ানের ৫০০ ও ৫০১ নম্বর দাগের পুকুর ও বাড়ির জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিএস রেকর্ড করা হয়েছে। এ বিষয়ে রেকর্ড সংশোধনের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার মাতুব্বর বলেন, "আমিও রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নিয়েছি।" তবে লিজের কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, "রেলওয়ের এই জায়গা নিয়ে মমতাজ বেগম ও দেলোয়ার মাতুব্বর গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিক মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা ও সালিশ হয়েছে। আমার জানা মতে, মমতাজ বেগম ও তার ছেলেরা রেলওয়ের কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে জমি নিয়ে বর্তমানে ভোগদখলে রয়েছেন। দেলোয়ার মাতুব্বরের দাবির বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।"

বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজবাড়ী ফিল্ড কানুনগো মো. রুহুল আমিন বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী রেলওয়ের উক্ত দাগের সম্পত্তি নিলাম খরিদ সূত্রে মমতাজ বেগম ও তার সন্তানদের দখলে রয়েছে। তারা সম্প্রতি তিন বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করেছেন। দেলোয়ার মাতুব্বরদের নামে ওই দাগে রেলওয়ের কোনো বৈধ লিজ বা অধিকার নেই। বর্তমানে ভোগদখলেও মমতাজ বেগম গং রয়েছেন।"

এদিকে স্থানীয়রা জানান, দেলোয়ার মাতুব্বর তালমা রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে রেলওয়ের বেশ কিছু জমি বালু ভরাট করে অবৈধভাবে দখল নিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে রেলপথের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তারা অবিলম্বে রেলওয়ের অবৈধভাবে দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য (0)

আপনার মন্তব্য লিখুন

Footer Advertisement (970x90)